সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন সোমবার, জাতিসংঘে ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর শান্তিগঞ্জে সহকারী শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন সভাপতি রানা, সম্পাদক ফয়জুল স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে লন্ডনে প্রস্তুতি সভা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অভূতপূর্ব গতিতে এগিয়ে চলছে শান্তিগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গুরুতর আহত শান্তিগঞ্জে পিএফজির সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় শান্তিগঞ্জে ঐতিহাসিক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে তবলীগ জামাতের মুসল্লীদের নগদ অর্থ ও মোবাইল চুরি-থানায় অভিযোগ দায়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড সিলেটে রাষ্ট্রপতি:আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি, এখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই প্রধান কাজ

কাদা-পানির দুর্ভোগ শেষ, স্বস্তির পথে ঠাকুরভোগ

কাদা-পানির দুর্ভোগ শেষ, স্বস্তির পথে ঠাকুরভোগ

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি::
বর্ষা এলেই চারদিকে থইথই পানি। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যেত গ্রামের পথঘাট। স্কুলগামী শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ কিংবা অসুস্থ রোগী—সবার জন্যই ছিল চরম দুর্ভোগ। বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগের মধ্যেই চলাচল করতে হয়েছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দুর্গম গ্রাম ঠাকুরভোগের বাসিন্দাদের।
তবে এখন বদলেছে সেই চিত্র। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের বিশেষ বরাদ্দে ঠাকুরভোগ গ্রামে নির্মিত হয়েছে দুটি সিসি ঢালাই সড়ক। পৃথক বরাদ্দে মোট সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দুই সড়ক বদলে দিয়েছে গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা।
এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ৬২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সিসি ঢালাই সড়ক। আর দুই দফায় বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রজনীগঞ্জ সড়ক থেকে পূর্বপাড়ার বিলাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্যের আরেকটি সিসি সড়ক।
দুটি সড়ক নির্মাণের ফলে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। আগে বর্ষাকালে কাদা-পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হতো তাদের। অনেক সময় পা পিছলে কাদাজলে পড়ে যেত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টির দিনে অনেকেই স্কুলে আসতে চাইত না। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত। নতুন সড়ক নির্মাণের পর বদলে গেছে সেই চিত্র।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম তালুকদার ও তানিশা জান্নাত বলে, “আগে কাদা-পানির কারণে স্কুলে আসতে পারতাম না। এখন দৌড়ে স্কুলে আসতে পারি।”
ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীরণ চন্দ্র দাসও জানালেন আগের দুর্ভোগের কথা। তিনি বলেন, “আমি যখন এই স্কুলে যোগদান করি, তখন স্কুলে আসার পথে ৫-৬ ফুট জায়গা খুবই কর্দমাক্ত ছিল। জুতা হাতে নিয়ে স্কুলে আসতে হতো। এখন রাস্তা সিসি ঢালাই হওয়ায় আমরা জুতা পায়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে স্কুলে আসতে পারি। আগে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কম ছিল, এখন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯০ শতাংশের ওপরে।”
শুধু বিদ্যালয় নয়, ঠাকুরভোগ গ্রামের পূর্বপাড়ার ৮০০ ফুট সড়কটিও স্বস্তি এনেছে স্থানীয়দের জীবনে। রজনীগঞ্জ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া এই সড়ক দিয়ে এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছেন ঠাকুরভোগ ও সাপেরকোনা গ্রামের মানুষ।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা আরও বড়। তাদের দাবি, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটি দ্রুত নির্মাণ করা হলে ঠাকুরভোগ, সাপেরকোনা, শান্তিপুর, টাইলা, দুর্বাকান্দা, দুর্গাপুরসহ পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে সরাসরি উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়ক বাস্তবায়িত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও আসবে নতুন গতি।
দীর্ঘদিনের কাদা-পানির দুর্ভোগ পেরিয়ে দুটি নতুন সড়ক এখন ঠাকুরভোগবাসীর জন্য স্বস্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। একসময় যে পথ ছিল দুর্ভোগের, সেই পথই এখন হয়ে উঠেছে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের মাধ্যম।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com